1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সিন্ডিকেট ও দুর্বৃত্তায়নের নির্মূল জরুরী

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
সোমবার, ২১ মার্চ, ২০২২

সমকালীন বাংলাদেশের সঙ্কট পর্যালোচনায় প্রণিধানযোগ্য বিষয় হচ্ছে অসহনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি। কারও মতে এর পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র সক্রিয়। সীমাহীন জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ঘোলাজলে মাছ শিকারের দুরভিসন্ধির বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে। মতানুসারে মস্কো-ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদিত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পণ্য সরবরাহের অন্তরায়সমূহের অজুহাতে কালোবাজারি-মজুদদারি সিন্ডিকেটের কূটকৌশল অবলম্বন সুবিদিত। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, রাজনীতি-বাণিজ্য-নাগনাগিনীর অভিশপ্ত পদচারণার সর্বত্রই সিন্ডিকেটের কারসাজি প্রতিফলিত। এসব কদর্য দুর্বৃত্তায়নের দুষ্টচক্রে দেশবাসীর জীবন-জীবিকার দৃশ্যপট দুর্বিষহ রূপ পরিগ্রহ করেছে। জনগণের ক্ষোভ-বিক্ষোভ-অসন্তোষ গভীর থেকে গভীরতম হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে সুযোগ সন্ধানীরা অধিকতর উৎসাহিত হবে। অদম্য অভিযাত্রায় দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির মাঙ্গলিক দৃষ্টান্ত অনেকেরই গাত্রদাহের কারণ হয়েছে। বিষয়সমূহ কতটুকু নীতিনির্ধারক মহলে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, তা নিয়ে দেশবাসী যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

মহান স্বাধীনতা অর্জনের অব্যবহিত পরে মুক্তির মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ পুনর্গঠনে অসাধারণ প্রজ্ঞা-মেধা ও দক্ষতার সঙ্গে কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে সমধিক সফলতাকে ম্লান করার উদ্দেশ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানামুখী চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান ছিল। সে সময় পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম অরাজকতা সৃষ্টিতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ-মূল্য নির্ধারণে অস্বাভাবিক অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বঙ্গবন্ধু সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। ঘুষ-সুদখোর, মজুদদার, চোরাকারবারি, চোরাচালানি, অন্যের জমি-বাড়ি দখলদারদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু কঠোর ভাষায় শুধু সাবধান করেননি, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বহুবার। ১৯৭২ সাল ঐতিহাসিক ৭ জুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলতে চাই, যারা শহরে সরকারী বাড়ি-গাড়ি দখল করে আছ, যারা দোকান বা অন্যের জমি দখল করে আছ, যারা মজুদ করছো, জিনিসপত্র বিক্রয় করছো না, জিনিসের দাম বাড়াবার চেষ্টা করছো, তাদের রেহাই নেই। আমি ভিক্ষা করে দুনিয়ার নানা দেশ থেকে জিনিসপত্র আনছি আমার গরিব দুঃখীদের জন্য। সেই জিনিস যারা লুটপাট করে খাচ্ছো, তাদেরও রক্ষা নাই।’ প্রাসঙ্গিকতায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর অমিয় বক্তব্যের অপরিসীম প্রযোজ্যতা জাতিকে নতুন করে অনুধাবন করতে হবে।

১৬ মার্চ ২০২২ গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত কারসাজি করে সরকার নির্ধারিত দরের তুলনায় সয়াবিন তেলের দাম মাত্রাতিরিক্ত বাড়িয়ে মজুদদাররা দেড় মাসে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এই টাকার একটি বড় অংশই গেছে মিলার ও পাইকারদের নিকট। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে ৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স এ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে বিশ্ববাজারের মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়, যা এখনও কার্যকর রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আবার সয়াবিনের দাম বাড়লে ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয় কর্তৃক নাকচের পর থেকেই মিলার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করে বাজারে সয়াবিনের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বৃদ্ধি করতে থাকে। সমসূত্র মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে সয়াবিনের চাহিদা ৫০ হাজার টন, যা কেজির হিসেবে ৫ কোটি কেজি। উক্ত হিসাব অনুসারে অহেতুক তেলের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে ৭ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ৪ দিনে বেশি নেয়া হয়েছে ২৮৮ কোটি, ১১ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭ দিনে নেয়া হয়েছে ২৪৫ কোটি, ১৮ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪২৫ কোটি, ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ সময়ে ৩৬০ কোটি, ৩ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত ১১ দিনে নেয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। সর্বমোট ৪৫ দিনে ভোক্তার পকেট থেকে লোপাট করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৮ কোটি টাকা।

১৮ আগস্ট, ১৯৭৪ সালে বন্যাকবলিত জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে বলেছিলেন, ‘দেশবাসী ভাই ও বোনেরা, একটা কথা আজ আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, জনগণের দুর্দশাকে মূলধন করে যারা মুনাফা লুটে সেই ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, চোরাকারবার, মজুদদার ব্যবসায়ীদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে। রিলিফ বণ্টন নিয়ে কোন ছিনিমিনি খেলা বরদাশত করা হবে না। ক্ষুধার্ত মানুষের গ্রাস যারা কেড়ে নেয় তারা মানুষ নয়, মানুষরূপী পশু। আপনারা আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন। আমি এই পশুদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে চাই। কিন্তু জনগণের সাহায্য ছাড়া এ সম্ভবপর নয়। তাই জনগণের সাহায্য আমি কামনা করি।’ ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর দুর্বৃত্তায়ন উৎখাতের ঘোষণা অবশ্যই পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে। বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এখনও বলা যায়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কাজের চাপ থাকলেও দেশবিরোধী অপশক্তি নানা কূটকৌশলে কর্মযজ্ঞের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। জনশ্রুতি মতে, অনুপ্রবেশকারী-পরাজিত শক্তির ছদ্মবেশী দোসররা সরকারী কিছু স্বার্থান্বেষী লোকজনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের সুবিধাবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশের মানুষদের নিয়ে হোলিখেলায় মেতে উঠে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকিয়ে দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে অর্থনীতি ধ্বংসের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

অনস্বীকার্য যে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু দেশে উৎপাদিত পণ্যের বাজারে কোন ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ার যৌক্তিকতা কতটুকু তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির অন্ত নেই। বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টন। আমন ও আউশ মৌসুমে ফলন ভাল হয়েছে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চাল আমদানিও করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত চালের মজুদ ছিল ১৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বৃহৎ প্রায় ৫০-৬০টি চালকলই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু ধানের বিপুল অংশ তারা ভাঙ্গায়, ফলে তাদের নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। কতিপয় মানুষের কাছে বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় তারা বেশি মুনাফা করছে বলে অনেকের অভিযোগ। কনজ্যুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গণমাধ্যমে বলেন, ‘অসাধু এবং শক্তিশালী একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর কারসাজির কারণেই মূলত বাজারে দ্রব্যমূল্যের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। আনেকবার সিন্ডিকেট চিহ্নিত হলেও এরা এতটাই শক্তিশালী যে, এদের শাস্তির আওতায় আনা যায়নি। ফলে নানা ইস্যুতে এরা নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে দেশে বেশ কিছু আইন আছে। সেসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। পাশাপাশি এসব ব্যাপারে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। কারোনা সংক্রমণ বাড়াসহ যেকোন শর্ট ক্রাইসিসে ১০ দিনের পণ্য একদিনে কেনা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।’

সম্প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীরা অবৈধভাবে ভোজ্যতেলের মজুদ গড়ে তুলছে। অসাধু চক্রান্তে জড়িয়ে পড়ছে তেল রিফাইনারিরা। বাদ যাচ্ছে না পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারাও। ৬ মার্চ ২০২২ দেশে ভোজ্যতেল, ডাল, চাল, আটা, চিনি, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন বৃদ্ধিতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিন আইনজীবীর করা রিটের প্রেক্ষিতে ১৩ মার্চ ২০২২ হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহাবুব ও এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানিকালে বলেন, সয়াবিন তেলসহ নিত্যপয়োজনীয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধির দায় অসাধু সিন্ডিকেটের। যারা দ্রব্যমূল্য কুক্ষিগত করে রেখে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে, সেই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে হবে। একই দিনে সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সরকার নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট-শুল্ক কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির লাগাম টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতির সুযোগ, অস্বাভাবিক দাম নেয়া বন্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘এ্যাকশনে’ যাওয়া ও তদারকি বাড়ানো এবং অবৈধ মজুদ বন্ধে টাস্কফোর্স কর্তৃক ‘হস্তক্ষেপ’ করার কথাও জানানো হয়। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। ফলে সবার সঙ্গে আলাপ করেই দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আমরা কোথাও মজুদদারি করতে দেব না, কোন সুযোগ নিতে দেব না। সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে এই অবৈধ মজুদের চেষ্টা করবে সেখানে আমরা হস্তক্ষেপ করব।’

আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বভাবিকতায় দ্রব্যমূল্য হাতের নাগালে রাখতে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আরও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- করোনা মহামারীকালে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণের ধারবাহিকতায় ট্রেডিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ (টিসিবি)’র মাধ্যমে এক কোটি মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য (পেঁয়াজ, তেল, ডাল, চিনি, খেজুর ও ছোলা) সরবরাহ, বিতরণ বাড়াতে টিসিবির ট্রাকের সংখ্যা ২০০ থেকে ৮০০ তে বৃদ্ধি করা, ১৫ মার্চ থেকে ঢাকার বাইরে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রয় শুরু এবং এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিল থেকে তালিকা সংগ্রহ, অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য সহনশীল রাখা, দ্রব্যের দাম ভোক্তাদের কাছে সহনীয় রাখতে ভোজ্যতেল, চিনি ও ছোলার ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার, ভোজ্যতেল সোয়াবিনের উৎপাদন ও পাইকারি পর্যায়ে ২০ শতাংশ এবং আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার ইত্যাদি। এছাড়াও রমজানের আগে সরকারের ১২টি সংস্থা আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা, পাইকারি বাজার ও পণ্য পরিবহন এই চার স্তরে নজরদারি করবে, যাতে রমজানকে পুঁজি করে কেউ অতি মুনাফা করে ভোক্তাকে ঠকাতে না পারে। এ সময় কোন ধরনের অনিয়ম পেলে দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল, শিল্প মন্ত্রণালয়, র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, টিসিবি, কৃষি বিপণন অধিদফতর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটরিং টিম বাজার তদারকি করবে। এই কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, মৎস্য কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিনিধি, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধি এবং ক্যাবের সদস্যরা সহায়তা করবে।

অশুভ শক্তির যোগসাজশে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া দল-নেতা-কর্মী-সমর্থকরা অতীতের মতো দেশে আবার একই ধরনের বৈরী পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রে প্রতিনিয়ত প্রচারিত যে, দল ও সরকারে নানা পন্থায় অনুচরবৃত্তির আড়ালে অনুপ্রবেশকারীদের দোর্দ- প্রতাপ-আধিপত্য এবং পদ-পদবি-পদক দখলে বেপরোয়া মনোভাব অশুভ অন্ধকারের শক্তির অভিশপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির পথে অন্তরায় তৈরিতে তৎপর। সচেতন মহলের অভিপ্রায়, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চেতনায় ঋদ্ধ দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা-অবমূল্যায়নে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য অগ্রগতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে যে অসাধারণ মর্যাদায় সমাসীন হয়েছে পরাজিত শক্তির যন্ত্রণা তাতে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বিভিন্ন অপকৌশল-ছলচাতুরী-অভিনয়শৈলী-অনৈতিক পন্থায় লবিং-তদবির বাণিজ্যের অন্তরালে দেশকে পর্যুদস্ত করার সকল অপকৌশল দেশের আপামর জনগণ গভীর পরিতাপের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। বরাবরই মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রোৎসাহিত অগ্রযাত্রায় নির্লজ্জ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী এই দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে তাদের সকল কর্মযজ্ঞকে কঠিন কুঠারাঘাতে বিনাশ করতে সদা তৎপর। এসব সিন্ডিকেট-দুর্বৃত্তদের সমূলে উৎপাটন করে আপামর দেশবাসীর সামগ্রিক স্বার্থ সুরক্ষায় সকলের ঐক্যবদ্ধ সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে বর্তমানে।

লেখক : ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী – শিক্ষাবিদ , সাবেক উপাচার্য , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


সর্বশেষ - রাজনীতি

নির্বাচিত

মুহিব্বুল্লাহ হত্যা: আরসা নেতা সমিউদ্দিন কুতুপালংয়ে গ্রেফতার

চীনকে হটিয়ে ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

রেমিট্যান্সের নগদ প্রণোদনা পাবেন শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্যরা

রোহিঙ্গা ভার আর কতদিন বইতে হবে বাংলাদেশকে? 

ঈদের ছুটিতে সাড়ে ৬০০ কোটি ছাড়াল কক্সবাজার পর্যটন খাতের আয়

বন্দি জঙ্গিদের মোকাবিলায় আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কারারক্ষীরা

আওয়ামী লীগ করার কারণে রগ কেটে হত্যা : মৃত্যুর আগে যুবলীগ নেতা

পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচলের জন্য চীন থেকে এলো নতুন ১৫ কোচ

ভার্চুয়াল জঙ্গি কার্যক্রমের ৮০ ভাগই বন্ধ : সিটিটিসি

রেলে নাশকতার অভিযোগে বিমানবন্দর স্টেশনে আটক ৯