1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

আদমজী জুট মিল বন্ধের দুই দশক 

হামজা রহমান (অন্তর) : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২

পরিবেশবান্ধব ও বিপুল সম্ভাবনাময় শিল্প হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০২ সালের ৩০ জুন আদমজী জুট মিল্‌স বন্ধ করে দেয়। হাজার হাজার শ্রমিক এর ফলে বেকার হয়ে পড়ে। মিলটি বন্ধের সময় ২৪ হাজার ৯১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক এখানে চাকরি করতেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে মিলটিকে জাতীয়করণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু সরকারের কর্তৃক গৃহীত দুর্নীতিবিরোধী ও অব্যবস্থাপনা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল হিসেবে তখন থেকে আশির দশকে কয়েক বছর পর্যন্ত পাটকলটি লাভের মুখ দেখেছিলো। বঙ্গবন্ধুর সরকারের পরবর্তী সরকারগুলোর অব্যবস্থপনা, দুর্নীতি ও দুবৃত্তায়ন বন্ধের উদ্যোগ না নেয়ায় ধীরে ধীরে মিলের আর্থিক অবস্থা নাজুক হয়।

প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাটকলগুলো যেখানে লাভের মুখ দেখছিলো এবং একপর্যায়ে সমগ্র বিশ্বে যে সময় পরিবেশবান্ধব হওয়ায় পাটজাত পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলছিলো সেই মূহুর্তে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বাংলাদেশের গর্ব এই মিলটি বন্ধ হয়ে করে দেন তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। চাপের মুখে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেন বেগম জিয়া। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের কতটা আগ্রহ ছিল সেটা বোঝা যায় মিল বন্ধের পরে তাদের এক প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিক্রিয়ায়। কারখানাটি বন্ধের ১৫ দিনের মাথায় ২০০২ সালের ১৬ জুলাই বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের তখনকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মিকো নিশিমিজু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে এক চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘যখন আমি আদমজী পাটকল বন্ধের ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্তের কথা জানলাম, তখন আমি সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য আপনার সাহস ও দৃঢ়তা দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’ অর্থাৎ, এশিয়ার সব থেকে বড় পাটকলকে বন্ধ করে দেওয়া বিশ্বব্যাংকের চোখে ছিল সে সময়ের সরকারের বিরাট জনসেবা!

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে বিশ্বব্যাংকের চাপের নত না হয়ে, তাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি ও চালু করে সারাবিশ্বে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সেখানে, তৎকালীন সময়ে এই বিশ্বব্যাংকের সামনে নতজানু হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এশিয়ার সর্ববৃহৎ মিল বন্ধের মতো এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ ছিলো পাটকলটি বন্ধ করার। একই সময়ে বিশ্বব্যাংক প্রতিবেশী ভারতে পাটকল চালু রাখতে সহায়তা করে। বিশ্বব্যাংকের এই দ্বিচারিতার সামনে দাঁড়ানোর মতো শক্তি-সামর্থ্য নৈতিক দৃঢ়তা খালেদা জিয়া সরকার দেখাতে পারেনি। শ্রমিক ইউনিয়ন, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও কিছু বামপন্থী রাজনৈতিক দলের বাঁধা সত্ত্বেও ২০০২ সালের ৩০শে জুন এই কলটি চিরতরে বন্ধ করে দেয় তারা।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ায় আদমজী জুটমিল গড়ে ওঠে ২৯৭ একর জমির ওপর। আদমজীকে ঘিরে শীতলক্ষ্যার দুইপাড়ে সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁয়ে গড়ে ওঠে বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাস। বর্তমানে মিলটির ১নং ইউনিট রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছে এবং ২নং ইউনিটটি পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া চলছে।

লেখক : হামজা রহমান (অন্তর) – কলামিস্ট, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও ছাত্রনেতা। 

 


সর্বশেষ - রাজনীতি