1. অন্যরকম
  2. অপরাধ বার্তা
  3. অভিমত
  4. আন্তর্জাতিক সংবাদ
  5. ইতিহাস
  6. এডিটরস' পিক
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয় সংবাদ
  9. টেকসই উন্নয়ন
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. নির্বাচন বার্তা
  12. প্রতিবেদন
  13. প্রবাস বার্তা
  14. ফিচার
  15. বাণিজ্য ও অর্থনীতি

গণটিকা কর্মসূচি উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক

ইবার্তা সম্পাদকীয় : ইবার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম
বুধবার, ২ মার্চ, ২০২২

এক দিনে এক কোটি মানুষকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় দিন রোববার সারাদেশে ২৭ লাখ ৯৩ হাজার ১১৭ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়া বলা দরকার, ক্যাম্পেইনের প্রথম দুই দিনে দেশে ১ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার ৫০০ জন মানুষ টিকার প্রথম ডোজের আওতায় এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তিন দিনের বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দিনে রোববার সারাদেশে ২৭ লাখ ৯৩ হাজার ১১৭ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৫, দ্বিতীয় ডোজ ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩৮ ও বুস্টার ডোজ নেন ৮৪ হাজার ৯০৪ জন।

উলেস্নখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার ১১ মাস পর গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান শুরু করে সরকার। তার আগে ২৭ ফেব্রম্নয়ারি ২৬ জনের ওপর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়। প্রথমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার, ফাইজার, সিনোফার্ম, মডার্না, সিনোভ্যাক ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা এই মুহূর্তে শুধু ভাসমানদের দেওয়া হচ্ছে। সাহায্য সংস্থা ব্র্যাকের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গণটিকা কার্যক্রমের মধ্যেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাসমানদেরও টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আমলে নেওয়া দরকার, এবারের বিশেষ এ টিকা কর্মসূচিতে এত সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়ায় বিশ্বে টিকাদানে রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি এটাও বলেছেন, বাংলাদেশ এখন টিকাদানে বিশ্বে দশম। গত ২৬ ফেব্রম্নয়ারি এক কোটি টিকা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল, স্বাস্থ্য বিভাগের সব পর্যায়ের লোকের প্রচেষ্টায় এটি সফলভাবে করতে পারার বিষয়টিও উলেস্নখ করেন। এটি অনেক বড় অর্জন উলেস্নখ করে জানিয়েছেন, এতে করে মোট জনগোষ্ঠীর ৭৩ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা গেল। আমরা বলতে চাই, টিকাদন কর্মসূচি যেভাবে এগিয়ে চলেছে তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কেননা, করোনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক্ষেত্রে এটাও বলতে চাই, মানুষের ভেতর আগ্রহ বেড়েছে এবং নানা ধরনের সচেতনতা কর্মসূচিও টিকাগ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে- যা সন্তোষজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া টার্গেটের বেশি মানুষ টিকার আওতায় চলে আসছে বলেও জানা যাচ্ছে- যা ইতিবাচক বলেই প্রতীয়মান হয়। কেননা, এটা এড়ানোর সুযোগ নেই যে, করোনা ভাইরাসকে ঠেকাতে টিকার কোনো বিকল্প নেই। আমরা বলতে চাই, টিকা কার্যক্রমকে সামগ্র্রিকভাবে সফল করার পাশাপাশি মানুষ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি এক দিনের জন্য বিশেষ এ কর্মসূচি চালু হলেও ওই দিন সারাদেশের লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকাকেন্দ্রে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নেন। মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ায় বিশেষ ক্যাম্পেইনের কার্যক্রমের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়িয়ে সোমবার (২৮ ফেব্রম্নয়ারি) পর্যন্ত করা হয়। এছাড়া দেশে গত বছর ২৭ জানুয়ারি সরকারি উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে ৭ ফেব্রম্নয়ারি থেকে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, টিকা কার্যকমের সার্বিক বাস্তবায়ন জরুরি। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। সঙ্গত কারণেই মাস্ক পরতে হবে, মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। অনেক আগেই দেশের সর্বস্তরে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। কিন্তু হাটবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন না। অনেকে মাস্ক ব্যবহার করেন না রাস্তায় চলাচলের সময়ও। বাসের চালক ও হেলপার, এমন কি অনেক যাত্রীও মাস্ক ব্যবহার করেন না। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে প্রায় সর্বত্র- এমন বিষয়ও বারবার উঠে এসেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে টিকাদানের পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি থাকুক এমনটি কাম্য।


সর্বশেষ - রাজনীতি